"একজন পুলিশ সদস্যের আত্মহত্যা ও আমাদের শিক্ষা"





ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উত্তর বিভাগের আব্দুল কুদ্দুস মৃত্যুের পূর্বে  ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেন, ‘আমার মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ী করবো না। আমার ভেতরের যন্ত্রণাগুলো অনেক বড় হয়ে গেছে। আমি আর সহ্য করতে পারছি না।

প্রাণটা পালাই পালাই করছে...

তবে সকল অবিবাহিতগণের প্রতি আমার আকুল আবেদন, আপনারা পাত্রী পছন্দ করার আগে পাত্রীর ‘মা’ ভালো কি-না সঠিকভাবে খবর নেবেন। কারণ পাত্রীর ‘মা’ ভালো না হলে, পাত্রী কখনোই ভালো হবে না। ফলে আপনার সংসারটা হবে দোজখের মতো। সুতরাং সকল সম্মানীত অভিভাবকগণের প্রতি আমার শেষ অনুরোধ বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেবেন।’

একজন মানুষ কতটা দুশ্চিন্তা আর প্রেশারে থাকলে এরকম পোস্ট করতে পারেন আর এরকম আত্মহত্যা করতে পারেন, তা আল্লাহ ভালো জানেন। সত্যিকার অর্থে বর্তমানে এরকম হাজারো পরিবারে সমস্যা। প্রতিটি ছেলেই চায় জীবনে ভালো একটা চাকরি করে একটা ভালো পরিবারের মেয়েকে বিয়ে করে সুখে শান্তিতে আগামী কাটাবে। কিন্তু, অনেক সময় এর উল্টো ঘটে যায়। ছেলে টাকা-পয়সা রুজি করে আর্থিকভাবে সুখী হয়, কিন্তু পারিবারিক ভাবে হয় না। এদেশে একজন ভালো মা পেলেও, ভালো একটা মেয়ের অনেকটাই অভাব৷ ভালো মেয়ে পেলেও কিন্তু তার ভালো মা পাওয়া যায় না৷ প্রতিটা মা চায়, তার মেয়ে যেন শ্বশুর বাড়িতে রাজকন্যা হয়ে থাকুক৷ কিন্তু, একটিবার ও চায় না যে, তার ছেলের বউ ও তো একজন মেয়ে৷ সেও রাজকন্যা হয়ে থাকুক। মেয়েকে অন্যের ঘরের রাজকন্যা বানানোর জন্য উঠে পড়ে লেগে থাকেন৷ যেকোনো কিছুর বিনিময়ে হলেও মেয়েকে রাজকন্যা ও পরিবার প্রধান হিসেবে দেখতে চায়। একটিবার ও আরেকটা পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের কথা চিন্তা করতে চান না৷ তার নিজের মেয়ে পাক স্বাধীনতা আর অন্য কেউ না।

# পুলিশ সদস্যের ফেসবুক পোস্ট ও আত্মহত্যা দেখে বুঝা যায় এরকমই কিছু হয়তো ঘটেছিল তার পরিবারে। হয়তো একদিকে না ছাড়তে পারছিলো বাবা-মাকে আবার অন্যদিকে না বউ-শ্বাশুড়িকে। একদিকে বউয়ের জ্বালা, আরেকদিকে শ্বাশুড়ি। আবার এদিকে সরকারি একটি চাকরি। আবার বাবা-মা। কেউ আঘাত করলেও ততটা লাগেনা। কিন্তু, মানসিক আঘাত প্রতিটা সময় মানুষকে মেরে ফেলে। তিল তিল করে মেরে ফেলা যাকে বলে। তাই, হয়তো আর কোনো উপায় না পেয়ে শেষমেশ আত্মহত্যার পথ বেছেই নিলেন। একজন মানুষ সরকারি চাকরি পাওয়ার পর মোটামুটি আর্থিকভাবে অনেকটাই স্বাবলম্বী হয়৷ কিন্তু, পারিবারিক টেনশনে থাকলে সেটাও মাটি হয়ে যায় আর সুখ অটো ফুরিয়ে যায়।

আব্দুল কুদ্দুস ভাই ও হয়তো সরকারি চাকরি পাওয়ার পর হাজারো স্বপ্ন আর ইচ্ছে নিয়ে বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু, সব স্বপ্ন আজ হয়ে গেল শেষ। শুধুমাত্র একজন শ্বাশুড়ির জন্য। যা তার ফেসবুক পোস্ট দেখে বলা যাচ্ছে।

# আসলে মানুষের চেহারা দেখেই বিবেচনা করা যায়না সে ভালো নাকি খারাপ। প্রথম প্রথম চেহারা আর ব্যবহার দেখবেন খুব ভালো। কিন্তু, বেশকিছু দিন চলার পর চেনা যায় মানুষ। অনেককে দেখবেন খুবই পর্দা করে। কিন্তু, তার মুখের ভাষা আর ব্যবহার আপনাকে খুবই বিচলিত করবে। এসমাজে একজন পতিতা নারীকেও পর্দা করতে দেখা যায়। আবার সুন্দর মেয়ে দেখেই বুঝে নিবেন না সে আপনার জন্য উপযুক্ত। আমি অনেক সুন্দর মেয়েকে দেখেছি যাদের বাহিরে চাকচিক্য কিন্তু, মুখের ভাষা একদমই ভালো না। ব্যবহার ভালো দেখেছি কিন্তু, তাদের স্বার্থে আঘাত পড়লে কতটা নিচে নামতে পারে, তা ও দেখেছি। এটা আবার আমার ক্ষেত্রে ঘটেছে বলে ভাববেন না।

তাই, যাই করুন ভেবে চিন্তে করবেন। কেননা, একটি দুর্ঘটনা সারাজীবনের কান্না।

লেখকঃ- লবীব আহমেদ। 
ব্লগার, সাহিত্যিক ও সাংবাদিক 

Post a Comment

0 Comments